আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও সুইডেনের স্টকহোমে কয়েক দশ হাজার মানুষ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।
যুক্তরাজ্যে লন্ডনের রাসেল স্কয়ার থেকে হোয়াইটহল পর্যন্ত বিশাল মিছিল হয়। সেখানে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটসহ প্রধান সরকারি দপ্তরগুলো অবস্থিত। বিক্ষোভকারীরা তথাকথিত ‘পিস কাউন্সিল’-এ যুক্ত না হতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের মতে, এটি গাজা পুনর্দখলের পথ তৈরি করতে পারে।
এই ‘বোর্ড অব পিস (বিওপি)’ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। সংস্থাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ তদারকির দাবি করে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উদ্যোগটি জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে প্রান্তিক করে ইসরায়েলের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চায়।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ওডেনপ্লান স্কয়ারে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সমাবেশ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কড়াকড়ির প্রতিবাদ জানান। ব্যানারে লেখা ছিল—‘গাজায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে,’ ‘স্কুল ও হাসপাতাল বোমাবর্ষণে ধ্বংস হচ্ছে,’ ‘গাজায় হামলা বন্ধ করো,’ ‘খাদ্য অবরোধ শেষ করো,’ এবং ‘শান্তিচুক্তি মানতে হবে।’
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং ইসরায়েলে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি স্থগিতের আহ্বান জানান।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ৫২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৬০ জন শিশু, নারী ও বয়স্ক। নিহতদের ৯২ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক এবং অধিকাংশ মৃত্যু তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে আবাসিক এলাকায় ঘটেছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪০৫ জন। তাদের মধ্যে ৭৮০ জন শিশু, নারী ও বয়স্ক। একই এলাকাগুলো থেকে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় আরও অন্তত ১৭ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অব্যাহত গোলাবর্ষণে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
Your Comment